পুরুষতন্ত্র ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পুরুষতন্ত্র ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

পুরুষদের প্রতি ভালোবাসা আমার অগাধ।
আমার বহু পুরুষ বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন যাদের আমি ভীষণ ভালোবাসি,  শ্রদ্ধা করি  এবং কি, সম্পর্ক হয়ে না উঠা প্রেমিকদেরও ভালোবাসতাম।
আমার এমনও বন্ধু আছে যাদের আমি পুরুষ কম মানুষ বেশি ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
আমরা বৈষম্যমূলক আচরণ কম করি, বৈষম্যমূলক কথা কম বলি। আমরা সমতার চর্চা করি।

ঠিক তেমনই নারী বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র, শুভাকাঙ্ক্ষী দেরও ভালোবাসি এবং শ্রদ্ধা করি।

বৈষম্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চিত্র ফুটে ওঠলে তা অবলোকন করে দেখলে দেখা যাবে সমাজে শুধুমাত্র নারীরাই বৈষম্যের শিকার হোন তা না।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই পুরুষতান্ত্রিক সিস্টেমের শিকার খোদ পুরুষ নিজেও।
তার মানে এই দাঁড়ায় – পুরুষতান্ত্রিকতা(প্যাট্রিয়ার্কি) হচ্ছে একটা সিস্টেম যেটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হতে শুরু করে রাজনৈতিক সামাজিক এবং ধর্মীয় ব্যবস্থার
সম্মিলিত রুপ।

প্রথমেই পুরুষদের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়েছি কারণ পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই মনে করতে পারেন যে আমি পুরুষ বিদ্বেষী মনোভাব রাখি। কিন্তু সেটা ভুল! তাই আমাদের বুঝতে হবে পুরুষতন্ত্র ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয় এটা একটা সিস্টেম।
আমাদের প্রতিবাদ পুরুষের বিরুদ্ধে নয় এই সিস্টেমের বিরুদ্বে।

দেখা যাবে সমাজের মধ্যে কিভাবে এই পুরুষতন্ত্র শেকড় পর্যন্ত তার প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে! ছোট ছোট বাচ্চাদের কথাবার্তা গুলো আমি খেয়াল করি। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি, তাঁদের মনোভাবও এই সিস্টেমের ভিতরেই গ্রো আপ করছে।

একটা ছোট্ট বাচ্চা যখন একটা ছেলে মানুষকে দেখে তাঁর সামান্য মেয়েলি স্বভাবের কারণে তাঁকে মেয়েছেলে বলে সম্বোধন করে তাঁর দিকে চেয়ে আমি ঘাবড়ে যাই।

একজন কৈশোরে পা রাখা ছেলে যখন একজন মেয়েকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সময় চোখ রাঙ্গিয়ে হুমকিস্বরূপ কটাক্ষ করে বলে যে ‘ তুমি মেয়ে নিচু স্বরে কথা বলো’ তখন তাঁর চেহারায় পুরুষতন্ত্রের ফাঁদে পড়া একজন অসহায় কিশোরের আর্তনাদ দেখি।

নারী হয়ে নারীর সাথে হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে কোন নারী যদি এই মনে করিয়ে দেয় – প্রতিবাদের বদলে মানসম্মান হানি ঘটে, তখন ঐ বাঁধা দেওয়া নারীটির চোখেমুখে সাফ সাফ দেখা যায় শিকল পরা অবস্থায় সে নারীর অসহায়ত্বের গল্পও কোনভাবেই সুখকর নয়।

একজন মা যখন বেদনা সহিত গর্ব নিয়ে বলেন যে হ্যাঁ আমি দাসী, এটাই আমার অহংকার তখন আমি রীতিমতো এই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার জোর দেখে আতঙ্কিত হই।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমতল অঞ্চলের জীবনযাত্রা এবং পাহাড়ের আদিবাসীদের জীবনযাত্রা মানের তুলনা করে বলা হয়ে থাকে যে – পাহাড়ে আদিবাসী সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে লিঙ্গভেদে বৈষম্য খুব কমই প্রতীয়মান।
আমার কাছে আমি সমাজের আনাচে কানাচে যে কোন ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি পদে পদে আমি এই লিঙ্গীয় বৈষম্যের উপস্থিতি দেখতে পাই।।

আমাদের মারমা সমাজের কথা তুলে ধরলে সেখানে সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক তথা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীদের কিভাবে পদে পদে হেয় করা হয়ে থাকে তা খুবই হতাশাজনক ভাবে ভয়ংকর। এই অবস্থার ফলস্বরুপ আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা পরিবর্তন প্রত্যাশা করেতে গিয়েও একটু ভাবতে হয়।

সারাবিশ্বে যখন বিবর্তনীয় তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে মানুষ পরিবর্তনের বহু উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে সভ্যতার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে প্রতিযোগিতা করার চেষ্টা করছে সেখানে আমরা এখনো এই খুবই নিম্নমানের চিন্তাধারা নিয়ে সভ্যতাকে তথা নিজেদেরকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবো? অর্থাৎ নিজের সমাজকে নিজের আপনজনকে এবং কি নিজেকে এই পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা কি করতে পারিনা?
ভাবতে হবে! আমি ভাবি। আপনিও ভাবুন!
আওয়াজ তুলতে হবে! নিজের জন্য না হোক আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা নতুন সম্ভাবনার এক সাম্যের পৃথিবী গড়ি!

এই সফরে আওয়াজ তুলতে গিয়ে বাঁধা আসলে বলতে হবে – আমার জীবন, আমার ভাষা, আমার কন্ঠ রোধ করার তুই কে?????

This Post Has 9 Comments

  1. উক্রা

    অামার স্বাধীনতা রোধ করার তুই কে?? অসাধারণ দিদি ভাই। ❤❤

    1. Mima Voice

      😍

  2. উক্রা

    😍😍

  3. Trisha

    অনেক ভাল লিখছিস😍

    1. Hla Hla EE

      Thanks 😘

  4. মংটিংওয়াইংমারমা

    অসাধার,,,,পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে সংগ্রাম করে বাঁচতে হবে।এটা দুনিয়া নিয়ম।এগিয়ে যেতে নারী সমাজরা।

  5. Hla Hla EE

    নারীরা এগিয়ে যাবে তখনই মানুষ হিসেবে যদি পুরুষরা সাথে থাকেন। 😘 ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

  6. Salma

    Hey guys its a great job good luck to you all, sending love and kisses from Morocco

    1. Hla Hla EE

      Its meant a lot to us 🙂 keep supporting us with Thanks and love ❤

Leave a Reply